প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ না রাখায় সরকারকে স্বাগত জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে আগামী অর্থবছর থেকে নবম পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ঘোষণার প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
বাজেট-পরবর্তী এক প্রতিক্রিয়ায় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ না রাখা দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের একটি ইতিবাচক বার্তা।
তার মতে, অতীতে বিভিন্ন সময়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের মতো যুক্তি দেখিয়ে এ ধরনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তাই ভবিষ্যতেও এ ধরনের সুবিধা পুনর্বহাল না করার আহ্বান জানান তিনি।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রসঙ্গে টিআইবির বক্তব্য, দীর্ঘদিন পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ বাস্তবসম্মত। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মচারীদের উপযুক্ত বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও মনে করে সংস্থাটি।
তবে বেতন বৃদ্ধি থেকে প্রত্যাশিত সুফল পেতে হলে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটির প্রস্তাব, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজস্ব এবং পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয় ও সম্পদের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ ও প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে। এ ধরনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করে তারা।
প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্য ও সেবায় শুল্ক-কর কমানোর উদ্যোগকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছে টিআইবি। সংস্থাটির মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সহায়ক হতে পারে।
তবে বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা না থাকাকে হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি। টিআইবির মতে, শুধু বরাদ্দ বা নীতিগত ঘোষণা নয়, কার্যকর বাস্তবায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতাই বাজেটের সাফল্য নির্ধারণ করবে।