জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, সরকারি ব্যয়ের ধরন এবং বেসামরিক প্রশাসনে সেনাবাহিনীর ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়াজুড়ে বিক্ষোভে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। রাজধানী জাকার্তাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে হাজারো শিক্ষার্থী রাজপথে নেমে সরকারের নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

শনিবার (১৩ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর জের ধরে শিক্ষার্থীরা প্রেসিডেন্ট প্রাবোবো সুবিয়ান্তোর সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে।

বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম কমানো, রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে অপচয় রোধ এবং বেসামরিক প্রশাসনে সেনাবাহিনীর প্রভাব হ্রাস করা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সরকারের কিছু কর্মসূচিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমেই বেড়ে চলেছে।

জাকার্তায় বিক্ষোভ মিছিল গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিলের অগ্রগতি ঠেকানোর চেষ্টা করলে কয়েকজন বিক্ষোভকারী তা ভাঙার চেষ্টা করেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আন্দোলনস্থল ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ছয় হাজার পুলিশ ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়।

এদিকে, দেশের অর্থনীতিতেও চাপের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রা রুপিয়াহর মান ক্রমাগত কমছে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপিয়াহ ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছেছে, যা দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আন্দোলনকারীরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে না আনলে বিক্ষোভ আরও বিস্তৃত হবে। তারা বিপ্লব স্লোগানও দেয় এবং রাজধানীর পাশাপাশি বান্দুং ও পন্তিয়ানাকসহ বিভিন্ন শহরে একই ধরনের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।’

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ ইন্দোনেশিয়ার সামাজিক অস্থিরতা বাড়াচ্ছে, যা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। জ্বালানি ও খাদ্য মূল্যবৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় নীতি এবং সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ ক্রমশ বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকেত হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।