চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং আজ সোমবার দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ং পৌঁছেছেন। গত সাত বছরে উত্তর কোরিয়ায় এটি তার প্রথম সফর।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিনহুয়া জানিয়েছে, দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে শি চিন পিং সোমবার দুপুরে উত্তর কোরিয়ার রাজধানীতে অবতরণ করেছেন। বিমানবন্দরে শি ও তার স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানকে কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও ফার্স্ট লেডি রি সোল জু ‘উষ্ণভাবে’ স্বাগত জানান।
সফরে তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো উত্তর কোরিয়ার ওপর চীনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব আরো শক্তিশালী করা।
সফরের আগে উত্তর কোরিয়ার গণমাধ্যমকে পাঠানো একটি প্রথাগত চিঠিতে শি লিখেছেন যে, “সময় যতই বদলাক বা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যেভাবে বিকশিত হোক না কেন, চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব অটুট, স্থায়ী এবং ক্রমাগত প্রাণবন্ত থাকবে।”
চীন দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার প্রধান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগী। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার মধ্যকার সামরিক ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা দেখা দিয়েছিল। বিশেষ করে ২০২৪ সালে পুতিনের পিয়ংইয়ং সফর এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির পর এই সমীকরণ বদলে যায়। তবে চলমান বৈশ্বিক ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে শি জিনপিংয়ের এই সফর স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে—কিম ও পুতিনের সম্পর্ক যতই উন্নত হোক না কেন, চীনই উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবলম্বন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, শি চিন পিং উত্তর কোরিয়াকে খাদ্য, সার, পর্যটন এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রকল্পে সহায়তার প্রস্তাব দিতে পারেন। এর মাধ্যমে চীন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে তার ঐতিহ্যগত জোটকে আরো শক্তিশালী করতে চায়।
এদিকে উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। দেশটির নেতা কিম জং উন সম্প্রতি পারমাণবিক শক্তি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, শি চিন পিং সফরের সময় পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে সরাসরি চাপ না দিয়ে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়টি গুরুত্ব দেবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর শুধু চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের জন্য নয়, বরং পূর্ব এশিয়ার কৌশলগত ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে শি চিন পিং-এর এই সফরের পর সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।