ভারতের দিল্লিতে চলমান যুবকদের আন্দোলনের মুখে ‘ককরোচ’ বিতর্কে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তিনি বলেছেন, আদালতে শুনানি চলাকালে তার করা ‘ককরোচ’ মন্তব্য কেবল ভুয়া ডিগ্রি নিয়ে আইন পেশায় ঢোকা ব্যক্তিদের উদ্দেশে ছিল, দেশের যুবসমাজের জন্য নয়।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন।

ভারতের প্রধান বিচারপতি জানান, দেশের যুবসমাজের প্রতি তার অগাধ শ্রদ্ধা ও সম্মান রয়েছে এবং তাদের উদ্দেশ্য করে তিনি কোনো কটু কথা বলেননি।

সূর্য কান্ত বলেন, অতীতে স্বয়ং বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়াই ভুয়া আইন ডিগ্রির বিষয়টি সামনে এনেছিল। সেই তথ্যের আলোকে তিনি বিচার বিভাগ থেকে এসব ভুয়া ডিগ্রিধারীদের ছেঁটে ফেলার প্রেক্ষাপটে ওই মন্তব্য করেছিলেন।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যারা মূলত জাল সনদ ব্যবহার করে পেছনের দরজা দিয়ে আইনজীবী হিসেবে পেশায় ঢুকে পড়েছে, তাদেরকে কেন্দ্র করে আলোচনাটি হয়েছিল। কারণ এদের মাধ্যমে মহৎ এই পেশার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে ভারতের প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, আমি যখন দেশের কোথাও সফরে যাই, তখন অসংখ্য তরুণ-যুবক আমার সঙ্গে দেখা করতে আসে। সত্যি বলতে, আমি এই দেশের যুবসমাজের থেকে কাজের শক্তি ও উৎসাহ পাই।

তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণদের যদি কোনো ন্যায়সঙ্গত ক্ষোভ বা দাবি থাকে এবং তারা যদি আদালতের মাধ্যমে তার সমাধান চায়, তবে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের দরজা তাদের জন্য সবসময় খোলা রয়েছে। সংবিধান ও দেশের আইন মেনে তাদের সব সমস্যার সমাধান করা হবে।

বিতর্কের পটভূমি উল্লেখ করে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৫ মে একটি মামলার শুনানিতে আইন পেশায় বেকার যুবকদের ককরোচের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন প্রধান বিচারপতি। সেই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারতে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয় এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে কাকরোচ জনতা পার্টি (সিজিপি) নামে একটি দলও গঠিত হয়। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে তিনি পুরো দেশের যুবসমাজকে অপমান করেছেন। তবে এর পরদিন প্রধান বিচারপতি এক লিখিত বিবৃতিতে জানান, গণমাধ্যমের একটি অংশ তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে।

সংশোধনী বিবৃতিতে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, অপেশাদার বা অহেতুক একটি মামলার শুনানিতে তার বলা কথাকে গণমাধ্যমে ভুলভাবে তুলে ধরায় তিনি গভীরভাবে ব্যথিত।