মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস বলেছে, “মানুষকে হত্যা করা সম্ভব, কিন্তু আদর্শকে কখনোই মুছে ফেলা বা হত্যা করা যায় না”।

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত দেশটির পুরো শীর্ষ নেতৃত্বকে চাইলে যুক্তরাষ্ট্র ‘এক আঘাতেই বা এক শটেই’ নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারত। ট্রাম্প আরও যোগ করেন, সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ বিবেচনা করে এবং টেবিলে বসার মতো কাউকে অবশিষ্ট রাখার স্বার্থেই তারা এই হামলা চালাননি। এ ছাড়া জানাজায় ইরানিদের শোকের ঢল ও কান্না দেখে ট্রাম্প বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, তিনি ভেবেছিলেন মানুষ খামেনিকে ঘৃণা করে।

ট্রাম্পের এই অহংকারপূর্ণ ও উসকানিমূলক বক্তব্যের জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) ইরান দূতাবাস তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়:

ইরান দূতাবাস ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে লেখে, “আপনারা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করেছেন, কিন্তু বাস্তবে আপনারা সুগন্ধির একটি পাত্র বা শিশি ভেঙেছেন মাত্র, যার সুবাস এখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।”

বার্তায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতি নিয়ে কটাক্ষ করে বলা হয়, “আপনারা এসব বিষয় উপলব্ধি করতে পারবেন না, কারণ আপনাদের কোনো সভ্যতা, ইতিহাস কিংবা সম্মান—কোনোটিই নেই”।

৪ জুলাই নিজেদের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা আমেরিকার পক্ষে ইরানিদের এই আবেগের গভীরতা বোঝা সম্ভব নয় বলেও তারা উল্লেখ করে।

কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করা গেলেও তার বিশ্বাস, চিন্তাধারা এবং জনমানুষের ওপর তার প্রভাবকে যে বুলেট বা বোমা দিয়ে স্তব্ধ করা যায় না, সেটিই ইরান তাদের এই কূটনৈতিক জবাবের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মাঝে ৩ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত ইরানজুড়ে সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা চলায় দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক প্রধানরা এক স্থানে সমবেত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিকে ঘিরে ট্রাম্পের নতুন হুমকি এবং ইরানের এই ঝাঁঝালো পাল্টা জবাব দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক দ্বন্দ্বকে আরও উসকে দিল।