দীর্ঘ কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আমজনতার আস্থার প্রতীকে পরিণত হওয়া ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’ এবং দেশের সামগ্রিক ইসলামী ব্যাংকিং খাতকে ধ্বংস করার চক্রান্ত চলছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সিরাজুল ইসলাম। গত শনিবার (৬ জুন, ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে ছাত্রশিবিরের সাবেক এই কেন্দ্রীয় সভাপতি ইসলামী ব্যাংকের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস স্মরণ করে বলেন, "কত ঘাম, কত পরিশ্রম এবং লিটারেচারের মধ্য দিয়ে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বাস্তব নমুনা মানুষের সামনে আনতে হয়েছে, তার হিসাব করা অসম্ভব। প্রতিষ্ঠাতা, পরিচালকমণ্ডলী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা, নিষ্ঠা ও দরদমাখা পরিশ্রম এবং সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আমানত এই ব্যাংককে বিশ্বের দরবারে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যাংক হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।"
বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং ধারার এই অভূতপূর্ব অগ্রযাত্রার ওপর আলোকপাত করে তিনি জানান, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের সফলতার পথ ধরেই দেশে বর্তমানে আরও ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া ১৬টি প্রচলিত ব্যাংক ৬০০-এর বেশি উইন্ডোর মাধ্যমে এবং ১৫টি প্রচলিত ব্যাংক ৩০টি বিশেষায়িত শাখার মাধ্যমে শরিয়াহভিত্তিক সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
সাবেক এই ছাত্রনেতা অভিযোগ করেন, সেক্যুলারপন্থীরা শুরু থেকেই ইসলামী ব্যাংকিংয়ের এই ঐতিহাসিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাবেক হাসিনা সরকারের প্রশ্রয়ে এস আলম গ্রুপ ডাকাতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে ইসলামী ব্যাংকগুলো দখল, অর্থ লোপাট এবং অর্থ পাচারের মহোৎসবে মেতে উঠেছিল।
গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করলেও, বর্তমান সরকারের নীতি ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, হাসিনা সরকারের পতনের পর বর্তমান সরকার পুনরায় সেই বিতর্কিত এস আলমের কালো থাবাকে ইসলামী ব্যাংকের ওপর প্রতিষ্ঠা করে প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে।
বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, "জাতীয়তাবাদী এই সরকারের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই, এই ব্যাংক নষ্ট করে আপনাদের লাভ কী? মনে রাখবেন, এর মাধ্যমে শুধু ইসলামী ব্যাংকিং খাতই ধ্বংস হবে না, বরং গোটা দেশের অর্থনীতি ধসে পড়বে।"
দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকার পরিচালনা করাও অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে তিনি নীতিনির্ধারকদের সতর্ক করে দেন।