জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি’র নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে আজ শুক্রবার বৈঠক করেছেন। রাত সাড়ে ৮টায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।

বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের স্বাগত জানান। সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠককালে তারা ভ্রাতৃপ্রতীম উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ও ভূ-রাজনৈতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার ওপর জোর দেওয়া হয়। দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়, শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে স্থান পায়। এছাড়া আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক নানা সংকট মোকাবিলায় যৌথ সহযোগিতার বিষয়েও তারা ঐকমত্য পোষণ করেন। উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উপনীত হবে।

বিরোধীদলীয় নেতা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং তাঁর সরকারকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তরিক সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তুরস্ক সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

এ সময় জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের উদ্দেশে একটি সম্মানসূচক শুভেচ্ছাপত্র পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি তাঁদের বাংলাদেশ সফরের জন্য পুনরায় উষ্ণ অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।

আমীরে জামায়াতের সঙ্গে ছিলেন সংগঠনের নায়েবে আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মো. সেলিম উদ্দিন এবং আমীরে জামায়াতের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এমপি।

বৈঠক শেষে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলাপ আলোচনা করেছি| তাদের এই সফরকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্বাগত জানিয়েছি। আমরা তাদেরকে অনুরোধ করেছি বেশ কতগুলা ব্যাপারে তাদের এটেনশন দেওয়ার জন্য। প্রথমত রোহিঙ্গা ক্রাইসিস নিয়ে। এটার একটা যৌক্তিক সমাধানের জন্য তারা যেন আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এগিয়ে এসে তারা দায়িত্ব পালন করেন। আমরা তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়েছি এজন্য যে, বর্তমানে বাংলাদেশের রোহিঙ্গাদের জন্য তারাই সর্বোচ্চ অনুদান দিয়ে চলছেন এবং প্রথম থেকে এখন পর্যন্ত আছেন ছেড়ে যাননি।

তিনি বলেন, আমরা এরপরে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেছি| বিশেষ করে আমাদের চামড়া শিল্প, আমাদের পাট শিল্প, গার্মেন্ট শিল্প, আমাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি এই সমস্ত বিষয়ে আলোচনা করেছি| বাংলাদেশ সরকারের সাথে সহযোগিতা করার জন্য আমরা তাদেরকে আহ্বান জানিয়েছি| তিনি বলেন, বাংলাদেশে আইনের শাসন, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন, ব্যাংক বিমার ক্ষেত্রে নৈরাজ্য বন্ধ করা এবং বিচারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে করণীয় কিছু থাকলে সেটাও তারা যাতে পালন করতে পারে সে ব্যাপারে আমরা তাদেরকে পরামর্শ দিয়েছি|

তিনি আরও বলেন, তারাও আমাদের কথাগুলো গুরুত্ব সহকারে শুনেছেন| তুরস্কের সাথে আমাদের দীর্ঘদিনের এই বন্ধুত্ব বাংলাদেশে আমরা প্রত্যাশা করি যে, এটা দিন দিন সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।