সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের কৌশল চূড়ান্ত করতে সচিব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে পুনর্গঠিত সচিব কমিটির এ বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, সচিব কমিটির পর্যবেক্ষণ, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের প্রস্তাব এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নবম পে স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আরও কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ ধারাবাহিকতার পরবর্তী বৈঠক আগামী ২৪ জুন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম পে স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগায় বর্ধিত বেতনের অর্থ হাতে পেতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। অর্থ বিভাগের একাধিক সূত্র বলছে, ঘোষণার পর থেকেই বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

নতুন পে স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন, বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এবং স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন।

অর্থ বিভাগের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান রাখা হয়েছে। এখন প্রজ্ঞাপন জারি, বিধি সংশোধনসহ আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হলে জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া বর্ধিত বেতন অক্টোবরের মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে জমা হতে পারে।

সূত্র মতে, বর্তমানে মূল্যস্ফীতির প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে বিশেষ সুবিধা (ইনসেনটিভ) দেওয়া হচ্ছে। নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে এ সুবিধা পৃথকভাবে আর বহাল থাকবে না। বরং তা নতুন মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

বর্তমানে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১০ শতাংশ হারে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। নতুন ব্যবস্থায় মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়লেও বিশেষ সুবিধা বাদ দেওয়ার ফলে প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি হবে তুলনামূলক কম। হিসাব অনুযায়ী, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের কার্যকর বেতন বৃদ্ধি হবে প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে তা হবে প্রায় ৪০ শতাংশ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন অস্থায়ী সুবিধা ও ভাতার পরিবর্তে মূল বেতন বৃদ্ধি করলে পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য অবসর-পরবর্তী সুবিধার পরিমাণও বাড়বে।

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ মোট ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এ বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায়।

এর মধ্যে কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য ১৪ হাজার ৪ কোটি টাকা, কর্মচারীদের বেতনের জন্য ৩০ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন ভাতার জন্য ৪৫ হাজার ১২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এদিকে জনপ্রশাসন খাতে মোট বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা বেশি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, অতিরিক্ত এই অর্থের বড় একটি অংশ থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে

জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তাকর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম পে স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও বর্ধিত বেতনের অর্থ হাতে পেতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। নতুন বেতন কাঠামোয় মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব থাকলেও বর্তমানে চালু থাকা ‘বিশেষ সুবিধা’ বা ইনসেনটিভ বাতিল হওয়ায় প্রকৃত বেতন বা নিট বৃদ্ধি ঘোষিত হারের তুলনায় কিছুটা কম হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

বর্তমানে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ সুবিধা চালু রয়েছে। এ সুবিধার আওতায় ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত সুবিধা পেয়ে থাকেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নবম পে স্কেল কার্যকর হলে এই বিশেষ সুবিধা পৃথকভাবে আর দেওয়া হবে না। বরং তা নতুন মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। ফলে কাগজেকলমে মূল বেতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়লেও প্রকৃত বা নিট বেতন বৃদ্ধির হার হবে তুলনামূলক কম।

হিসাব অনুযায়ী, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে কার্যকর বেতন বৃদ্ধি হবে প্রায় ৩৫ শতাংশ। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন বাড়বে প্রায় ৪০ শতাংশ। অর্থাৎ বিশেষ সুবিধা প্রত্যাহারের কারণে ঘোষিত বেতন বৃদ্ধির পুরো সুবিধা হাতে পাবেন না সরকারি চাকরিজীবীরা।

তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন অস্থায়ী সুবিধা ও ভাতার পরিবর্তে মূল বেতনকে শক্তিশালী করাই নতুন পেস্কেলের অন্যতম লক্ষ্য। এতে অবসরপরবর্তী সুবিধা যেমন পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধার পরিমাণও বাড়বে।

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা খাতে মোট ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটি যুক্ত করলে এ বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা।

বাজেট অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য ১৪ হাজার ৪ কোটি টাকা, কর্মচারীদের বেতনের জন্য ৩০ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন ভাতা বাবদ ৪৫ হাজার ১২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে জনপ্রশাসন খাতে মোট বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা বেশি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, অতিরিক্ত বরাদ্দের একটি বড় অংশ থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা নবম পেস্কেলের আংশিক বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে।

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম পে-স্কেলের আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রীর দাবি, এই বেতন বৃদ্ধির ফলে প্রশাসনে দুর্নীতি উল্লেখযোগ্য হারে কমবে। তবে দুর্নীতিবিরোধী বিশেষজ্ঞ, টিআইবি এবং সাবেক আমলারা এই দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন।

তাদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক হলেও, শুধু আর্থিক সুবিধা বাড়িয়ে দুর্নীতি নির্মূল করার ধারণাটি অবাস্তব। দুর্নীতি দমনে সবার আগে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, বাধ্যতামূলক সম্পদ বিবরণী প্রকাশ, জবাবদিহি এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ।

গত ১২ জুন বাজেটোত্তর সাংবাদিক সম্মেলনে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আমরা আশা করছি বেতন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্নীতি স্বাভাবিকভাবে কমবে। তাদের যখন আয় বাড়বে, তাদের যখন জীবনযাত্রা একটু উন্নত হবে। তখন নিশ্চয়ই দুর্নীতি কমবে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন , দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন না থাকলে সরকারি কর্মচারীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পেশাগত উৎকর্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রত্যাশা করা কঠিন। তবে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, শুধু বেতন বাড়ালেই দুর্নীতি কমবে এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। তার মতে, নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার পূর্বশর্ত হিসাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ বাধ্যতামূলক করতে হবে। শুধু নিজের নয়, পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয়-সম্পদের হিসাবও প্রতিবছর হালনাগাদ করতে হবে।

কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, দেশের প্রায় ১৯ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সবাই দুর্নীতিগ্রস্ত নন। বিশেষ করে নি¤œ গ্রেডের কর্মচারীরা বর্তমান বেতনে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য বেতন বৃদ্ধি প্রয়োজন। তবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনি প্রশাসনিক সংস্কারকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দরকার।