দেশের সংবাদকর্মীদের জন্য ২০২৬ সালের জুন মাসটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও উদ্বেগজনক। গত এক মাসে অন্তত ৫৯ জন সংবাদকর্মী বিভিন্ন ধরনের হামলা, মামলা এবং হুমকির শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫১ জন শারীরিক হামলার শিকার হয়েছেন। এছাড়া আইনি হয়রানি ও গ্রেফতারের মুখে পড়েছেন ৬ জন এবং হুমকি ও ডাকাতির শিকার হয়েছেন আরও ২ জন।
বুধবার (১ জুলাই) সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টস (বিএজে)-এর জুন মাসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বিএজে-র সম্পাদক (গবেষণা ও মনিটরিং সেল) মাহমুদুল হাসান স্বাক্ষরিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এই তথ্যগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জুন মাসজুড়ে সংবাদ সংগ্রহ ও পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকরা শারীরিক হামলা, নির্যাতন, আইনি হয়রানি এবং জীবননাশের হুমকির মুখে পড়েছেন।
বিএজের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে অন্তত ৪০টি ঘটনায় ৫১ জন সংবাদকর্মী শারীরিক হামলা, নির্যাতন ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। এসব হামলার পেছনে মূলত মাদক ব্যবসায়ী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মী, প্রভাবশালী ঠিকাদার এবং কিছু পেশাজীবী গোষ্ঠী জড়িত ছিল।
প্রতিবেদনে আরও একটি উদ্বেগজনক দিক উঠে এসেছে যে, সাংবাদিকরা একে অপরের ওপর হামলা চালানোর মতো ঘটনাও এই মাসে ঘটেছে। নিগ্রহের শিকার তিনজন সাংবাদিক স্থানীয় সামাজিক ও জমিজমাসংক্রান্ত ঘটনা কাভার করতে গিয়ে হামলার শিকার হন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে মোট ছয়জন সাংবাদিক আইনি হয়রানি ও গ্রেফতারের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভুয়া, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য’ প্রচারের অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় একই গণমাধ্যমের চার সাংবাদিককে আসামি করা হয়।
এ ছাড়া শরীয়তপুরের ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা একটি চাঁদাবাজির মামলায় স্থানীয় এক সাংবাদিককে আসামি করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সাংবাদিক হামলার ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন। সাতক্ষীরার একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বিএজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জুন মাসে অন্তত ২ জন সংবাদকর্মী সরাসরি হুমকি ও ডাকাতির শিকার হয়েছেন।
সংগঠনটি সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হামলা, হয়রানি ও ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।