পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীরকে বাংলাদেশে আনা হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও তাকে হাজির করা হবে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর মো.আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, "যদি তাকে বাংলাদেশে আনা হয়, তবে এই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও তাকে হাজির করা হবে। যেসব মামলার বিচার চলছে সেগুলোতে তাকে উপস্থিত করা হবে এবং তদন্তাধীন মামলাগুলোতে তাকে রিমান্ডে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।"
সোমবার (১৫ জুন) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব তথ্য জানান। এর আগে গত রবিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইতে গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার একজন আসামি বেনজীর আহমেদ। এ ঘটনার সময় ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে র্যাবের টিএফআই সেলে গুম করে রাখার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেকটি মামলায়ও বেনজীর আহমেদ আসামি। এই মামলায় মোট আসামি ১৭ জন। এর মধ্যে ১২ জন সেনা কর্মকর্তা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই মামলায় এখন সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।
ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, বেনজীর আহমেদ শুধু শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড নন, তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) অন্তত ১০টি মামলায় তদন্ত চলছে এবং প্রতিটি ঘটনার সঙ্গেই তার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
বেনজীর আহমেদের ক্ষমতার দাপট ও অপরাধের ধরণ সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, "বেনজীর আহমেদ শুধু শাপলা চত্বরের মাস্টারমাইন্ড নন। আমরা এক সময় জানতাম তিনি সারা বাংলাদেশকে চালাচ্ছেন। তার উপরে কাউকে মানুষ মনে হতো না। তার যে দম্ভোক্তি, তার যে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ—সব কিছু মিলিয়ে তখন বাংলাদেশে কোনো কোনো জায়গায় শেখ হাসিনার চেয়েও বেশি পরিচিত ছিলেন বেনজীর আহমেদ।"
ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যে কটি বিতর্কিত নির্বাচন হয়েছে, প্রতিটি নির্বাচনে বেনজীরের বিতর্কিত ভূমিকা ছিল বলেও ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র নস্যাৎ করার জন্য নিরপরাধ মানুষকে হত্যাসহ অসংখ্য দায় তাঁর।
আমিনুল ইসলাম বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জারি হওয়া তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইতিমধ্যে সরকারের কাছে দিয়েছে প্রসিকিউশন। পুলিশের এনসিবির মাধ্যমে ইন্টারপোলে তাদের কাছে এই ওয়ারেন্টের কপি যাবে। তাঁর জানামতে, সরকার ইতিমধ্যে বেনজীরকে এক্সট্রাডিশন (ফেরত) চেয়ে আবেদন করেছে। কূটনৈতিক চ্যানেলে এই প্রক্রিয়া শেষ হলে সেখানে এক মাস সময় লাগতে পারে। তার বিশ্বাস—বাংলাদেশ সরকারের আবেদনে সাড়া দিয়ে বেনজীরকে বাংলাদেশে ফেরত দেবে।