গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়নের ১০১ নং চান্দপুর হাজীবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে । এই জলাবদ্ধতার ফলে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা খুবই কষ্টে ক্লাস করছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়টির ভবন এবং সামনের রাস্তা উঁচু হওয়ায় বৃষ্টির কারণে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ এবং আশপাশের জায়গা জলাবদ্ধ হয়ে গেছে। বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা থাকায় বিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা এবং শিক্ষকগণ প্রবেশ করতে পারেন না। বাধ্য হয়েই হাঁটু পানি ভেঙ্গে বিদ্যালয়ে ভবনে উঠতে হয়। পানি ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণে স্থানীয় অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে তাদের সন্তানদের পাঠাতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। বলছেন বৃষ্টি থামলে এবং মাঠের পানি সরে গেলে বাচ্চাদেরকে স্কুলে পাঠাবে।

এলাকাবাসীর দাবি অবিলম্বে বিদ্যালয়ের মাঠটি মাটি ভরাট করে সামনের রাস্তার সমতায় নিয়ে আসলে বৃষ্টি হলেও আর কোন জলাবদ্ধতা হবে না। ফলে স্কুলের পরিবেশ সুন্দর হবে। মাটি ভরাটের বিষয়ে আমরা শিক্ষা বিভাগের শুভ দৃষ্টি কামনা করছি।

জানা গেছে, ১৯৭৬ সালে মানিক খালী হাজী বাড়ির আলহাজ্ব আজিজুল হকের বড় ছেলে আলহাজ্ব ফজলুল হক মুকুল মিয়া বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন এবং বিদ্যালয়টির জন্য জমি দান করেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ করা হয়। বিদ্যালয়টিতে ২৫০ জন শিক্ষার্থী আছে এবং চারজন সহকারী শিক্ষক দ্বারা বিদ্যালয়টি বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে। ২০১৮ সাল থেকে প্রায় নয় বছর বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। অত্র বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্কুলের অফিসিয়াল কাজে উপজেলা সদরে চলে গেলে তিনজন শিক্ষকের দ্বারা ২৫০ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করা কষ্টকর হয়ে যায়। চারজন শিক্ষকের মধ্যে একজন শিক্ষকের ক্ষেত্রে এই বিদ্যালয়ে ৬০ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করাতে হয়। যাহা সরকারি বিধি অনুযায়ী একজন শিক্ষকের জন্য বেশি।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ প্রতিবেদককে জানান, জরুরী ভিত্তিতে একজন প্রধান শিক্ষক আমাদের বিদ্যালয়ে দেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব। যদিও আমরা কষ্ট করে হলেও পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি।

আরো জানা গেছে, সরকারি হিসাব অনুযায়ী একজন শিক্ষকের জন্য ৪০ জন শিক্ষার্থী বরাদ্দ সেই অনুপাতে এই স্কুলে কমপক্ষে আরো দুজন শিক্ষক প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকজন অভিভাবক বলেন এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে আরো শিক্ষক দেওয়া প্রয়োজন এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে শুধুমাত্র এই বিদ্যালয়টি নয়, আরো যে সকল বিদ্যালয় বর্ষা মৌসুম শুরু হলে পাঠদানে সমস্যা হয় সেগুলোর সমস্যা সমাধানে শিক্ষা বিভাগ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।