দেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা, ভর্তুকি এবং উন্নত কৃষি উপকরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমীর মো. খায়রুল হাসান।

মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত রোপা আমন-২০২৬ মৌসুমে কৃষকদের মাঝে বীজ সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মো. খায়রুল হাসান বলেন, 'বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। একসময় কৃষিই ছিল দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। আজও গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত্তি কৃষি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, কৃষকরা জমিতে যে পরিমাণ শ্রম, সময় ও অর্থ ব্যয় করেন, তার তুলনায় ন্যায্য মূল্য ও কাঙ্ক্ষিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে কৃষি খাত নানা সংকটের মুখোমুখি। কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে সরকারকে প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, আর কৃষির উন্নয়নেই শক্তিশালী হবে গ্রামীণ অর্থনীতি।'

তিনি আরও বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের উন্নতমানের বীজ, সার, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। কৃষকবান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমেই দেশের কৃষি ও অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. আফতাব উদ্দিন, উপজেলা সেক্রেটারি ও উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, কালীগঞ্জ পৌরসভা আমীর মাওলানা আমিমুল এহসান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান প্রধান, জামালপুর ইউনিয়ন আমীর হাফেজ কামরুল হাসান, মুক্তারপুর ইউনিয়ন সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল আজিজসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন জামায়াতের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় কৃষকরা।

অনুষ্ঠান শেষে ৯২ জন কৃষকের মাঝে জনপ্রতি ৫ কেজি করে মোট ৪৬০ কেজি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) থেকে প্রত্যায়িত উন্নতমানের আমন ধানের বীজ বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, কৃষকদের অধিক ফলনশীল ও মানসম্মত ধান চাষে উৎসাহিত করা এবং উৎপাদন বৃদ্ধি করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।

বীজ সহায়তা পেয়ে কৃষকরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন, উন্নতমানের প্রত্যায়িত বীজ তাদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। তারা এ ধরনের কৃষকবান্ধব উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।