পাবনায় মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে পৃথক তিনটি ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শহরে প্রকাশ্যে একজনকে গুলি করে ও একজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে স্কুলছাত্রী রিয়া খাতুন ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের জেরে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একের পর এক এসব ঘটনায় জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে।

সোমবার (৮ জুন) বিকেলে ও সন্ধ্যায় পাবনা শহরে মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে সংঘটিত দুই হত্যাকাণ্ডে নিহত হন সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ গ্রামের মৃত ময়েন উদ্দিনের ছেলে আলী হোসেন (৫৩) এবং সাঁথিয়া উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের মুন্নাফের ছেলে মনিরুল ইসলাম (২১)। মনিরুল পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা ৭টার দিকে আলী হোসেন তার সন্তানকে পৌর এলাকার জামেয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসায় পৌঁছে দিতে যান। মাদ্রাসার গেটে রিকশা থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই দুটি মোটরসাইকেলে আসা চার দুর্বৃত্ত তার ওপর গুলি চালায়। সন্তানের সামনেই সংঘটিত এ হামলায় গুরুতর আহত আলী হোসেনকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে বিকেল ৫টার দিকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল-সংলগ্ন পেট্রোল পাম্পের পেছনে মনিরুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করা হয়। জানা গেছে, রাকিব নামের এক যুবকের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে রাকিব ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় মনিরুল দৌড়ে নিকটস্থ পুলিশ বক্সের সামনে এসে পড়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাকিবকে ধাওয়া করে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, পালিয়ে যাওয়ার সময় সে একটি কচুরিপানাযুক্ত পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিল।

পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় সাহা জানান, দুটি হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পিরপুর এলাকার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়া খাতুন (১৫) ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্তদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের সময় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২জনের মৃত্যু হয়। এর আগে সোমবার( ৮জুন) বিকেলে একই হাসপাতালে একজন মারা যান।

নিহতরা হলেন—পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ, নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং একই এলাকার মৃত ইউসুফের ছেলে সাপু।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন পদ্মা নদী থেকে রিয়া খাতুনের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন দাফন শেষে ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আশপাশে থাকা কয়েকজন গুরুতর দগ্ধ হন। পরে তাদের ঢাকায় পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন ৩ জন মারা গেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, রিয়া খাতুন হত্যা মামলায় তার কথিত প্রেমিক নাইমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

জেলার সচেতন মহল মনে করছে, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে সংঘটিত এসব হত্যাকাণ্ড ও সহিংস ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।