ফেনী সংবাদদাতা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেছেন বর্তমান সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার ওয়াদা করেও জনগণের সাথে গাদ্দারি করে দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি গতকাল সোমবার বিকেলে ফেনীর একটি কনভেনশন হলে ১১দলীয় ঐক্য আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা,গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আমাদের বাস্তবতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। জেলা জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে ও জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আবদুর রহিমের সন্চালনায় এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,আমার বাংলাদেশ পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির জেলা সদস্য সচিব অধ্যাপক ফজলুল হক।এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক অধ্যাপক আবু ইউসুফ। বক্তব্য রাখেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহ সেক্রেটারি ডাঃ ফখরুদ্দিন মানিক, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য এড.এস এম কামাল উদ্দিন,এবি পার্টির জেলা সভাপতি মাষ্টার আহসান উল্লাহ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা নাজমুল আলম,এনসিপির জেলা সদস্য সচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিক,জেলা বিডিপি সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইসমাইল, জেলা জাগপা সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, ছাত্র শিবিরের জেলা সভাপতি ইমাম হোসেন আরমান ও শহর-সভাপতি সফিকুল ইসলাম।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, এই সরকার জুলাই এর রক্তাক্ত স্মৃতিকে বেমালুম ভুলে গিয়ে জনগণকে প্রতারিত করছে। আমরা ফ্যাসিবাদ মুক্ত এই দেশটাকে একটি মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় আসীন হয়েই জনগণকে দেয়া তাদের ওয়াদা ভুলে গিয়ে আবার একটি কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র পরিচালনার পথে হাঁটছে।
জামায়াত নেতা বলেন, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ৩৩ টি দলের মাধ্যমে ৮৪ টি ধারা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিএনপি সহ সবাই স্বাক্ষর করে। ক্ষমতায় যাওয়ার পরও তারা বলেছে, প্রতিটি ধারা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। এখন বলছে সংবিধান সংস্কার নয় সংশোধন করবে। এই সরকার নব্য কর্তৃত্ববাদী শাসন জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে যা কখনো তারা সফল হতে পারবে না। আমরা সংসদে এবং রাজপথে সমানভাবে এর বিরুদ্ধে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আন্দোলন গড়ে তুলবো। তিনি সরকারকে হুশিয়ার করে দিয়ে বলেন, আমাদেরকে রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না। সেটা কারো জন্যই মঙ্গলজনক হবে না। তিনি বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার হলে প্রধানমন্ত্রীর একক কর্তৃত্ব থাকবে না, আওয়ামী লীগের মতো শুধুমাত্র দলীয় লোক দিয়ে প্রশাসনের প্রতিটি পদ ভর্তি করতে পারবেনা, তাই তারা সংস্কার করতে চায় না। তিনি বলেন, এটা জনগণের সাথে একটি অন্তহীন প্রতারণা।
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ৭১ এর ব্যবসা করে আওয়ামীলীগ দেউলিয়া হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। আপনারা নতুন করে ৭১ ব্যবসা শুরু করেছেন। ওসব বাদ দিয়ে জুলাই সনদের ব্যাপারে আপনাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে ফিরে আসুন।
তিনি ক্ষোব প্রকাশ করে বলেন, বহু জেলার স্কুল কলেজ মাদরাসা পানির নিচে তলিয়ে গেছে কিন্তু সরকার কোন পরীক্ষা বন্ধ করেনি। একটা শিশু ডুবে গেলে কে তার দায় নিবে? প্রতি বছর বন্যায় দেশ ভয়াবহ সংকটের সম্মুখীন হয়। আপনি কয়দিন তাদের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিবেন? কেন প্রতিবছর বন্যা হচ্ছে, কেন বন্যার পানি নামতে পারে না, কেনো উজানের পানিতে আমাদের ডুবে মরতে হবে তা নিয়ে সরকারের কোন কথা নেই। নেই সংসদের কোন আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক। বন্যা হতে থাকবে প্রতিবছর সরকার দলের নেতা কর্মী ও সরকারি কর্মকর্তাদের পকেট ভারী হতে থাকবে। জনগণের যা হয় হোক। তিনি বলেন, দলীয় কর্মী না হলে চাকরি হবে না, বিশেষায়িত হাসপাতালে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা পাবে না, গরিবের হাসপাতাল হচ্ছে সরকারি হাসপাতাল যেখানে চিকিৎসা নেই ওষুধ নেই। সরকারি প্লট ফ্ল্যাট শুধু মন্ত্রী এমপি এবং সেনা কর্মকর্তাদের। জুলাই আন্দোলনে বা দেশের জন্য তাদের কি অবদান আছে? এসব বৈষম্য দূর করতে জুলাই এসেছিল। জুলাই এসেছিল নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত রাষ্ট্র ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য। রাষ্ট্রের সকল স্তরে সংস্কারের জন্য জুলাই এসেছিল। সরকার নতুন আইন করে ব্যাংকগুলো আবার এস আলমের হাতে তুলে দেয়ার পাঁয়তারা করছে।