শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংসদে পাস হয়। এরই মধ্যে কেটে গেলো প্রায় ৮ বছর। প্রত্যাশিত দাবি পূরণ না করেই মেয়াদ শেষের আগে পালিয়ে যায় হাসিনার সরকার ।

প্রত্যাশা ছিল কঠোর শাস্তির মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা আসবে, কমবে প্রাণহানি ও দুর্ঘটনা। কিন্তু আইনটি প্রণয়নের পর পরিবহন মালিক-শ্রমিকেরা একাধিকবার ধর্মঘট ডেকে পরিবহন খাত অচল করে দেন। ফলে সড়কে পরিবহন বিশৃঙ্খলা আর ফেরত আসেনি। এরই মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পেরিয়ে এসেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার। পরিবহন সেক্টরে এখনো দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ লক্কর-ঝক্কর গাড়ি। যদিও সড়ক ও সেতুমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন দেশের কোথাও, কোনো সড়কে আর কোনো ফিটনেসবিহীন লক্কর-ঝক্কর যানবাহন চলতে দেওয়া হবে না। খুব দ্রুতই এর দৃশ্যমান অগ্রগতি আপনারা দেখতে পাবেন।

লক্কর-ঝক্কর বাসের ভিডিও বিআরটিএর অ্যাকশণ :

ঢাকার রাস্তায় দাপিয়ে বেড়ানো এই লক্কর-ঝক্কর বাসের দিন শেষ! একজন মটো ব্লগারের ক্যামেরায় ধরা পড়া এই জরাজীর্ণ বাসের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসতেই সরাসরি অ্যাকশনে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম! বাতিল করা হলো বাসটির লাইসেন্স ও রুট পারমিট!

সম্প্রতি এক জনপ্রিয় মটো ব্লগার ঢাকা শহরের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ক্যামেরাবন্দী করেন নাগরিক জীবনের এক ভয়ানক চিত্র। কোনো নিরাপত্তা বা নিয়মের তোয়াক্কা না করেই, যাত্রী নিয়ে বুক ফুলিয়ে চলছিল এই মিনিবাসটি। পেছনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া এই বাসটি যেকোনো মুহূর্তে ঘটাতে পারত বড় কোনো দুর্ঘটনা। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসতেই মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং নজর কাড়ে স্বয়ং মন্ত্রীর।

বিষয়টি দেখা মাত্রই বিন্দুমাত্র ছাড় দেননি মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তার জরুরি নির্দেশে মাঠে নামে । তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হয় বাসটির নিবন্ধন ও রুট পারমিট। একই সাথে মালিকপক্ষকে দেওয়া হয়েছে কড়া কারণ দর্শানোর নোটিশ।

সরকারের এই ঝটিকা সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে সাধারণ মানুষ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ভিডিও দেখে ব্যবস্থা নেওয়াই শেষ কথা নয়। সড়ক নিরাপদ করতে হলে ঢাকা শহরসহ দেশজুড়ে নিয়মিত বিআরটিএ-র কঠোর অভিযান চালাতে হবে।

জানা গেছে , ঢাকা সহ সারা দেশে ৫ লাখের বেশি ভাঙ্গাচোরা লক্কর-ঝক্কর গাড়ি নিয়ে পরিবহন সেবা মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রতিদিন কর্মজীবী মানুষদের অমানবিক কষ্ট নির্যাতন সহ্য করে পথ চলতে হচ্ছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিনের বিষাক্ত ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণের শিকার হচ্ছে রাজধানী শহর। সড়কে বাণিজ্যিকভাবে চলাচলকারী প্রত্যেকটি বাসের জন্য ৩ ধরনের সনদ ও নিবন্ধন বাধ্যতামূলক থাকলেও অধিকাংশ বাসের ফিটনেস নেই। সংশ্লিষ্ট একজনের মন্তব্য, ফিটনেস অনুপযোগী গাড়ির বেলায় অনেক ক্ষেত্রে রহস্যজনক কারণে ফিটনেস দিয়ে দেয় বিআরটিএ।

অনিয়ম ও দুর্নীতি সড়কে অরাজকতা বাড়তে সহযোগিতা করে যাচ্ছে বলে মনে করেন তারা এতে করে সরকারের নেয়া প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ যাত্রীগণ। সড়কে অসহনীয় পরিবেশ তৈরিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন বিশিষ্টজনেরা।

জানা গেছে, ২০০৪ সালে ঢাকার জন্য করা ২০ বছরের পরিবহন পরিকল্পনায় ‘বাস রুট রেশনালাইজেশন’ বা ‘বাস রুট ফ্রাঞ্চাইজ’ চালু করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ এ ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ছিল ঢাকার সড়ক থেকে লক্করÍঝক্কর বাস তুলে নেওয়া। সহজ শর্তের ঋণে নতুন বাস নামানো। বাস চলবে পাঁচ ছয়টি কোম্পানির অধীন। মালিকরা বিনিয়োগের হার অনুসারে লভ্যাংশ পাবেন।

বেসরকারি বাসমালিকরা প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তাদের বাস কিনে নিতে। তা আর হয়ে ওঠেনি। ফলে উদ্যোগটি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। যে একটি বেসরকারি কোম্পানি বাস নামিয়েছিল, তারাও লোকসানের ভারে সরে যায়। ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন কোম্পানি সহ ব্যক্তিমালিকানাধীন পুরাতন ভাঙ্গাচোরা প্রচুর গাড়ি নতুন করা হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে রংতুলির আঁচড়। আবার কোথাও পুরোনো ইঞ্জিন ও চেসিসের ওপর নতুন বডি বসানোর কাজ করা হচ্ছে।

ডিএমপির অভিযান

রাজধানীতে ইকোনমিক লাইফ অতিক্রান্ত, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুপযোগী যানবাহনের বিরুদ্ধে প্রায়ই বিশেষ অভিযান করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। জনদুর্ভোগ কমানো এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ডিএমপির এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজধানীতে চলাচলরত কিছু লক্কর-ঝক্কর বাস ও পণ্যবাহী যানবাহন প্রায়ই সড়ক, ফ্লাইওভার ও সেতুর ওপর বিকল হয়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি করছে। এতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছানোর পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ পরিস্থিতিতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে এসব ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী বাস ও মিনিবাসের ইকোনমিক লাইফ ২০ বছর এবং ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ অন্যান্য পণ্যবাহী যানবাহনের ক্ষেত্রে ২৫ বছর। এই সীমা অতিক্রম করা যানবাহন রাজধানীতে না চালানোর জন্য সংশ্লিষ্ট মালিক ও চালকদের অনুরোধ করা হয়েছে। এ নির্দেশনা অমান্য করলে জরিমানা, যানবাহন ডাম্পিংয়ে পাঠানোসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে ডিএমপি। এ লক্ষ্যে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান জোরদার করা হবে।

অভিযান শুরু হলেই আসে বাঁধা

আওয়ামী লীগের বিগত সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে পুরোনো বাস-ট্রাক উচ্ছেদের উদ্যোগ আটকে দেন তৎকালীন সরকার সমর্থক পরিবহন নেতারা। সে সময় ধর্মঘটসহ নানা আন্দোলনের মাধ্যমে সড়ক পরিবহন আইনের পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগও ঝুলিয়ে দেন তাঁরা। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও একই পথে হাঁটছেন পরিবহন নেতারা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পরিবহন খাতের যাঁরা নেতৃত্বে ছিলেন, তাঁরা কারাগারে কিংবা আত্মগোপনে। এখন নেতৃত্বে আছেন বিএনপিপন্থী পরিবহন নেতারা।

সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের নেতারা বলছেন, সরকার বাস, মিনিবাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানসহ বাণিজ্যিক যানবাহনের যে অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ২০ ও ২৫ বছর নির্ধারণ করেছে, তা বাড়িয়ে ৩০ বছর করা দরকার।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৩ সালের মে মাসে এক প্রজ্ঞাপনে বাসের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ২০ বছর এবং ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানের ২৫ বছর নির্ধারণ করে। এসব যান উচ্ছেদ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। উল্টো একই বছরের আগস্টে প্রজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের চাপে তৎকালীন সরকার পিছু হটে।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৬ জুন পুরোনো যানবাহনের বয়সসীমার আগের প্রজ্ঞাপনটি বহাল করে। পাশাপাশি এসব যান সড়ক থেকে উঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ২০ জুলাই অভিযান শুরু করে করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে স্মার্ট গণপরিবহন ব্যবস্থা করে তুলতে হবে। এই অঙ্গীকারের প্রথম ধাপ হিসেবে রাস্তা থেকে লক্কর-ঝক্কর সব বাস উচ্ছেদ করতে হবে। ভুক্তভোগী নগরবাসী দীর্ঘ সময় ধরে অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রতিদিন যাতায়াত করছে। রাজধানীর যাত্রীরা বাস মালিক শ্রমিকদের ইচ্ছের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ তাদের মর্যাদা নিয়ে এসব পরিবহনে যাতায়াত করতে পারছে না। সরকার সব সময় বাস মালিক ও শ্রমিকদের স্বার্থগুলো অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যাত্রীদের সুবিধা অসুবিধা বিবেচনায় নেয় না।

তিনি বলেন, বর্তমানে নিরাপত্তায় ঝুঁকিপূর্ণ যানজট তৈরির উৎসব এখন স্মার্ট বাংলাদেশের সঙ্গে একেবারেই বেমানান। তাই অতি দ্রুত সব সড়ক থেকে লক্কর-ঝক্কর বাস উচ্ছেদ করে নতুন উন্নত মানের ৫ হাজার বাস নামানোর দাবি জানাচ্ছি।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটানো এবং মানুষের মৃত্যু তো হত্যার শামিল।

গণপরিবহনের জন্য জরুরি নির্দেশনা বিআরটিএ’র :

গণপরিবহন ব্যবস্থায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে দেশের সব গণপরিবহনে আগামী ১ আগস্ট থেকে জিপিএস সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সম্প্রতি এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

গণবিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন গত ১১ জুন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সব গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস সংযুক্ত করতে হবে এবং তা সার্বক্ষণিকভাবে সচল রাখতে হবে।

জিপিএস সংযুক্তির কারিগরি বিবরণ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) স্থানীয় অফিস থেকে সরাসরি অথবা সংস্থাটির ওয়েবসাইট িি.িনৎঃধ.মড়া.নফ থেকে পাওয়া যাবে।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৫ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫৫ অনুযায়ী গণপরিবহনে জিপিএস সংযুক্তকরণ নিশ্চিত করার পরই রেজিস্ট্রেশন প্রদান ও ফিটনেস সনদ নবায়ন করা হবে।

যা বলছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী :

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বলেছেন, শেখ রবিউল আলম বলেছেন, রাজধানীতে প্রতিটি রুটে এক কোম্পানির মাধ্যমে গণপরিবহন চলবে। ঢাকায় এক রুটে এক কোম্পানির মাধ্যমে গণপরিবহন পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রতিটি রুটের বাস মালিকদের নিয়ে পৃথক কোম্পানি গঠন করা হবে। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজধানীর গণপরিবহন পরিচালনায় সমন্বয় আনার পাশাপাশি যাত্রীসেবা উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে

মন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট বাস, একই কালারের, নির্দিষ্ট মানের, ফিটনেস রেখে, ফ্যাসিলিটিজ রেখে চালাতে হবে। সেক্ষেত্রে আমরা ই-ভেহিকেলকে উৎসাহিত করছি, ইলেকট্রিক ভেহিকেল। তো এই কাজ অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে। মালিকরা কোন রুটে কোন কোম্পানি করবে, সে ব্যাপারেও তারা কিন্তু কাজ করছে। তো আমরা চাচ্ছি যে, বাস ব্যবস্থাপনা এবং চলাচলের ক্ষেত্রে একটা শৃঙ্খলা আনতে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে রুট, তৃতীয়ত হচ্ছে আপনার ট্রাফিক সিগন্যাল অথবা নির্দিষ্ট টার্মিনালে থামবে এবং নির্দিষ্ট টার্মিনাল থেকে উঠবে এই ব্যবস্থাপনাটা।

তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত স্টপেজ ও টার্মিনালভিত্তিক বাস চলাচল নিশ্চিত করা হবে। যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং বাস থামানোর প্রবণতা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ধাপে ধাপে নতুন ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।